ইসলামের নামে বিভ্রান্তির জঘন্য রুপ

কাজী মুহাম্মদ মুঈন উদ্দীন আশরাফী

হক বাতিল এর যুদ্ধ ঐতিহাসিক সত্য, সবসময় হক এর বিপরীতে একাধিক বাতিল অপশক্তি মাথাছড়া দিয়ে উঠে হক পন্থীদের ঈমানী পরিক্ষায় উত্তীণ হবার ক্ষেত্র তৈরী করেছে। আর এক পর্যায়ে হক এর বিজয় ও ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত। এ ধারাবাহিকতায় আলোকে এবং অদৃশ্যজ্ঞানের অধিকারী নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ভবিষ্যৎ বাণী মোতাবেক মুসলমানদের মধ্যে নানা ধরনের আর্জীদাগত গোমরাহী ও প্রষ্টতার বিষয়টিও নিশ্চিতরূপে প্রমাণিত। খোলাফায়ে রাশেদীন এর সোনালী যুগেই তার সূচনা হয়েছে। ফলে হযরত মাওলা আলী মুশকিল কোশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর পবিত্র সময়েই মুসলমানদের মধ্যে প্রকাশ্যে প্রাপ্ত দলের আবির্ভাব ঘটে। অর্থাৎ খায়েজী ও শিয়া দলের অশুভযাত্রা শুরু হল। অতঃপর বিভিন্ন নামে তাদেরই উত্তরসূরিগণ পরবর্তী সময়ে মুসলমানদেরকে ইসলামনের সঠিক আক্বিদা-বিশ্বাস থেকে বিচ্যুত করার যাবতীয় অড়যন্ত্র করে আসছে। আমলের দিকটাকে সীমাতীত গুরুত্ব দিয়ে সর্বাদিক গুরুত্বপূর্ন আরিদার বিষয়ে সরলপ্রাণ মুসলমানদের উদাসীন করে রেখেছে বাতিল চক্রগুলো। তাদের আলোচনায়, ওয়ান-নসিহতে আকিদার বিষয় গুরুত্ব পায় না। ফলে তাদের অনুসারীদের মধ্যে আকিদাগত সচেতনতা নেই বললেই চলে। পাশাপাশি তারা ফাঁকে ফাঁকে আল্লাহ, রাসূল, নবী-ওলী সম্পর্কে তাদের অনুসারীদের মধ্যে সুন্নী আক্বিদা বিরোধী দৃষ্টি ভঙ্গি প্রচার করে বেড়ায়। ফলে তারা নবী-রাসূল এর মানহানিকর কোন আরিলা বিশ্বাস বা বক্তব্য নিয়ে ঈমানী চেতনা কাজ করে না। এতে তারা তেমন কোন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে না। অন্যথায় তাদের লিখনীতে মারাত্মক আপত্তিকর ও চরম অবমাননাকর বক্তব্য নিয়ে তাদের মধ্যে বেশ প্রতিক্রিয়া দেখা যেত। কিন্তু এ অবস্থা তাদের মধ্যে বলতে গেলে একেবারেই অনুপস্থিত।

ইসলামের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয় যে, মুসলমানদের মধ্যে জন্ম নেয়া বাতিল সম্প্রদায়গুলো সবসময় এক ধরনের বিশ্রতি ছড়িয়ে সরলপ্রাণ মুসলমাদের বিপদগামী করেছে। কখনো নিজেদেরকে ইসলামের কড়া অনুযায়ী হিসেবে উপস্থাপন করে। যেমন খারেজী সম্প্রদায় মহিলাদের মাসিক ঋতুস্রাব কালীন বাদ যাওয়া নামাযগুলোও কায্য করতে হবে মর্মে মত পোষণ করে। অথচ কোরআন-সুন্নাহ ঐ সময়কালীন বাদ যাওয়া রোখা কাথার নির্দেশ দেয়, নামাযের নয়। তাহলে এখানে তারা নিজেদেরকে অতি নামাযী হিসেবে উপস্থাপন করে সরল প্রাণ মুসলমানদেরকে বিভ্রান্ত করেছে। এক মহিলা ঐ সময়ের নামায কায্য করতে হবে কিনা- এ প্রশ্ন হযরত উম্মুল মো। মেনীন হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রাদ্বিয়াল্লহু আনহা এর নিকটি জিজ্ঞাসা করলে তিনি ঐ মহিলাকে বললেন- তুমি খারেজী নাকি। আমাদের কে তো রোযা কাযা করার নির্দেশ দেয়া হত, নামায কাযা করার নির্দেশ দেয়া হত না।

আবার কখনো বিভ্রান্ত আওলাদে রাসুল এর প্রতি শরীয়তের সীমা অতিক্রম পূর্বক-শ্রদ্ধার নামে হয়েছে। ফলে মুসরমানদের মধ্যে শিয়া সম্প্রদায়ের আবির্ভাব ঘটেছে। এক পর্যায়ে তাদের এক উপদল গোমরাহীর সকল সীমা পার হয়ে হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে ইলাহ বা উপাস্যের আসনে সমাসীন করে। আবার তাদের মধ্যেও ছোট-খাট মতবিরোধ থেকে তারা প্রায় তিনশত উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়ে।

এভাবে ইসলামের স্বচ্ছ তুমিতে কত দল উপদলের নামে অগাছা জন্ম নিয়েছে, তার ইতিহাস সংরক্ষিত। কিন্তু মহান আল্লাহর মেহেরবানীতে ইসলামের মূলধারা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত এ অগণিত অগাছাকে চিহ্নিত করে সফলভাবে মোকাবিলা করে আজো বহাল তবিয়তে টিকে আছে।

অতঃপর এগারশ হিজরিতে আরবের পবিত্র ভূমিতে মুহাম্মদ ইবনে আবদিল ওহাব নজদীর আবির্ভাব নতুন করে মুসলমানদের চরমভাবে বিশ্রন্তির জন্ম দেয় ওহাবী মতবাদের মাধ্যমে। কথায় কথায় শিরক-বিদআতের ফতোয়া সরলপ্রাণ মুসলমানদের চরমভাবে বিশ্রান্ত করে। অনেকে তাদের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে ঈমান আব্রিলার অমূল্য সম্পদ হারিয়ে শুধু ইসলামী খোলস নিয়ে সন্তুষ্ট থাকে। এ মতবাদ পাকভারতে আমদানি হয় মৌং ইসমাঈল দেহলোভীল মাধ্যমে। তার ঈমান বিধ্বংসী কিতাবে তাকবিয়াতুল ঈমান এতে ব্যাপক ভূমিকা রাখে। তাদের একটি অংশ তাকলীদ বা চার ইমামের একজনের অনুসরণ এর বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়ে বিভ্রান্তির ক্ষেত্র বিস্তৃত করে তোলে। আর তারা লা-মাযহাবী, গায়রে মুকাল্লিদ, আহলে হাদিস ও সালাফী নামে পরিচিতি লাভ করে। এসব বিভ্রান্তির সবকটি ব্রিটিশ আমলে আত্মপ্রকাশে করে, মুসলমানদেরকে বিপদগামী করে।

বিশ্বব্যাপী বিজ্ঞ সুন্নী ওলামা-মাশায়েখ এসব বিভ্রান্তির মুখোশ উন্মোচন করেন। কোরআন-হাদীস, ইজমা-কেয়াসের আলোকে তাদের সকল বিভ্রান্তির দাঁতভাঙ্গা জবাব দিয়ে মুসলমানদের ঈমাম-আক্বিদা রক্ষায় প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেন। শুধু তাকবিয়াতুল ঈমান এর খন্ডনে বিভিন্ন দেশের সুন্নী বিজ্ঞ আলেমগন চল্লিশটির মত কিতাব লিখেছেন। তন্মোধ্যে আল্লামা মুখলেছুর রহমান চাটগামী রহমাতুল্লাহি আলায়হি-এর লিখিত তাফনিয়াতুল ঈমান রদ্দে তাকবিয়াতুল আলায়হি-এর লিখিত তাফবিয়াতুল ঈমান রদ্দে তাকবিয়াল ঈমান বা শরহুজ্জদুর বেদাফয়ীশগুরুর নামক কিতাব অন্যতম। বিজ্ঞ সুন্নী ওলামা-মাশায়েখের অব্যহত প্রচেষ্টার ফলে বাতিল দলগুলোর মুখোশ উন্মোচন হলেও তারা অমুসলিম শক্তিগুলোর সার্বিক বিশেষত: আর্থিক সহযোগিতা নিজেদের বিভ্রান্তির জাল বিস্তারে সদা তৎপর থাকে। ফলে তারা সুযোগ পেলেই মাথাছাড়া দিয়ে উঠে। এবং সরল প্রান মুসলমানদেরকে বিভ্রান্ত করতে পিছলা হয় না। সরল প্রান মুসলমানদেরকে ইসলামের মূল ধারা থেকে বিচ্যুত করার লক্ষ্যে তারা লিখনী, মাদরাসা প্রতিষ্টা দাওয়াতী কর্মসূচী ইত্যাদি নিয়ে সদা তৎপর। তার মোকাবিলায় সুন্নী মুসলমানদের কর্ম তৎপরতার ধীরগতির ফলে বাতিলপন্থীদের বিভ্রান্ত বর্তমানে আশংকাজনক বৃদ্ধি পেয়েছে। ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে। দেশের খাতনামা পীর-আউলিয়ার দরবার গুলোর পারস্পরিক সমন্বয়ের অভাবে সব সামর্থ থাকার পরও সুন্নীদের পক্ষে একটি ইলেক্ট্রনিক মিডিয় প্রতিষ্টা আজো সম্ভব হয়নি। জানিনা ভবিষ্যতেও হবে কিনা। মিডিয়া

মিডিয়া করতে করতে আল্লামা শায়খ নুরুল ইসলাম ফরুরী রহমাতুল্লাহি আলায়হি বাতিলপন্থীদের হাতে নির্মনভাবে শাহাদাত বরণ করলেন। যিনি সকল বাতিলের মোকাবিলায় মিডিয়াতে একাই সমলনাতে মোকাবিলা করেছেন। বাতিলরা দেখল এই একজনকে শেষ করে দিতে পারলে মিডিয়া জগতে তারা বিনা বাধায় সরল প্রান মুসলমানদের বিভ্রান্তি করতে পারবে। সেক্ষেত্রে যদি দশজন হতেন তাহলে কয়জনকে করতে পারত। কিন্তু সুন্নী মুসলমানদের দুর্ভাগ্য এতো পীর-মাশায়েখ, দেশব্যাপী অবস্থান করে দরবারগুলো ব্যাপক অনুসারী থাকা সত্ত্বেও যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। জানিনা এ ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে সুন্নী মুসলমান হন।

একটি হাদীস শরীফ ও তার বাস্তবতা

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ: «سَيَكُونُ فِي آخِرِ الزَّمَانِ دَجَّالُونَ كَذَّابُونَ، يَأْتُونَكُمْ مِنَ الْأَحَادِيثِ بِمَا لَمْ تَسْمَعُوا أَنْتُمْ وَلَا آبَاؤُكُمْ، فَإِيَّاكُمْ وَإِيَّاهُمْ، لَا يُضِلُّونَكُمْ، وَلَا يَفْتِنُونَكُمْ»

প্রখ্যাত সাহাবী হযরত আবু হোরায়রা রাদ্বিয়াল্লাছ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল করিম সালল্লাহ আলইহি ওয়া আলিহী ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, সেই যুগে অনেক ধোঁকাবাজ মিশাক বের হবে যারা তোমদের নিকট এমন সব কথা নিয়ে আসবে যা তোমরা তোমাদের পূর্বপুরুষরাও শুনেনি। অতএব, তোমরা অ্যাগের থেকে দূরে থেকে এবং তাদেরকে তোমাদের থেকে দূরে রাখ। যাতে তোমাদেরকে পথতই করতে এবং ভিলেনা ফেলতে না পারে।

উল্লিখিত হাদীসটিত বাস্তবতা আজ দিবালোকের মত উজ্জ্বল ও স্পষ্ট। বর্তমানে আলেম ও ধর্মীয় বড়া বেশে এমন কিছু ধোঁকাবাজ মিথ্যুকের বিচরণ পরিলক্ষিত হচ্ছে। যারা ইসলামের দোহাই দিয়ে সরল প্রাণ মুসলমানদের বিভ্রান্ত করে চলছে। বার আংশিক নিম্নরূপ-

শবে বরাত। ইসলামী শরিয়তের নির্ভরযোগ্য দলিলের আলোকে শবে বরাত একটি প্রমানিত বিষয়। এ প্রসঙ্গে বারজনের মত সাহাবায়ে কেরাম থেকে হাদিস বর্ণিত নির্ভরযোগ্য হাদিস গ্রন্থগুলোতে এ প্রসঙ্গে সহীহ সূত্রে বর্ণিত হাদিসও বিদ্যমান। এ ধরনের একটি প্রমাণিত বিষয় নিয়ে দেশে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার এর কয়েকটি জড়তা বিভ্রান্ত ছড়াচ্ছে। এমনকি এটাকে হিন্দুদের লক্ষীপূজা সাথে তুলনা করেছে (নাউযুবিল্লাহ)

এভাবে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী, ফাতেহা ইয়াযদাহুম ফতেমা, শরিয়ত সম্মত উপায়ে পালিত, ওরস শরীফ, জুমার নামাযের আগে এভাবে সুন্নাত নামায, তারাফির নামায আদায় পদ্ধতি ইত্যাদি ভিত্তিহীন মনপড়া বক্তব্যের মাধ্যমে-চরম বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। এসবের যথাযথ জবাব দিতে হলে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার

বিকল্প নেই। সবচেয়ে, বিশ্রান্তি-পীর-আউলিয়ার মাগার ও সংলিষ্ট আনুষ্ঠানিকতার বিরুদ্ধে। আর পীর-আউলিয়ার উত্তরসূরিদের অধিকাংশ এ বিষয়ে সবচেয়ে উদাসীন। অথচ তাদের মধ্যে প্রভাবশালী কেউ পদক্ষেপ নিলে একটি ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া স্থাপন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

বর্তমানে বাতিলচক্র যেসব বিভ্রান্তি ছড়িয়ে বাবা-মেগে, ভাই-ভাই এর মধুর বন্ধন পর্যন্ত ছিন্ন করে চলছে। তার অধিকাংশ মিডিয়া ভিত্তিক বিভ্রান্তি। অনন্মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ের জগন্য বিভ্রান্তি নিম্নরূপ-

ইসলামের মূলমন্ত্র কলেমা তৌহিল- লা ইলাহা ইল্লাল্লহু-মুহাম্মদুর রসূলুল্লাহ ও আল্লাহ-মুহাম্মদ এর লিখন পদ্ধতি নিয়ে ইতিমধ্যে একটি ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার একজন বক্তা জোরালো ভাষায় ঘোষনা করল যে উপরোক্ত নিয়মে অর্থাৎ লা ইলাহা ইল্লাল্লহ এর পাশাপাশি মুহাম্মদুর রাসুলুল্লাহ লিখাটা হবে। এ বক্তা আর বক্তব্যের পক্ষে কোন দলিল লিখতে হবে । নরুন তার বক্তব্যের পক্ষে কোন দলিল পেশ করবেন না। শুধুমাত্র বললেন কয়েকটি যুদ্ধের ঝান্ডায় নাকি উপরে নিয়ে লিখা ছিল। এ বক্তেব্যের পেছনেও কোন কিতাবের রেফারেন্স দেননি। পাশাপাশি শিরকের সংজ্ঞা পেশ করলেন না। আর গতানুগতিকভাবে বলে গেছেন এটা নাকি বেদআতী আলেমরা এভাবে দেখার পদ্ধতি চালুন করেছেন। অনুরূপভাবে অল্লাহ-মুহাম্মদু লিখার ব্যাপারে বললেন যে, এটা নাকি একটি বাক্য। এখানে আয়াছ শব্দটি ‘যুবদাতা’ বা উদ্দেশ্য, আর মুহাম্মদু শব্দটি বিধেয়। সুতরাং এটা শিরক হবে।

ক্বোরআন-হাদিস ও আরবী ব্যাকরণ এর আলোকে বিষয়টি নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করব।

প্রথমত- শিরকের সংজ্ঞা জানা দরকার। কারণ বর্তমানে বাতিল পস্থিহণ কথায় কথায় শিরকের ফতোয়া দিয়ে চলছেন। সংজ্ঞা জানা থাকলে অন্তত বিষয়টি শিরকের পর্যায়ে পড়ছে কিনা যাচাই করা সম্ভব হবে। শরহে আকাঈদে নাসাফী নামক আকাঈদ শাস্ত্রের নির্ভরযোগ্য ও অদ্যবধি সকল মাদরাসার পাঠ্যসূচির অর্ন্তভূক্ত কিতাবে বর্ণিত আছে শিরক হলো আল্লাহ তা’আলা ছাড়া অন্য কোন ব্যাক্তি বা বস্তুকে চিরন্তর সত্তা হিসেবে বিশ্বাস করা। অনুরূপভাবে আল্লাহ ব্যাতিরেকে অন্য কোন ব্যাক্তি বা বস্তুকে মা’বুদ বা উপাস্য সাব্যস্ত করা। অনুরূপভাবে সরাগত বা গুণগত দিক থেকে আল্লাহ তা’আলার সাদকার্থ বরে কোন সৃষ্টিতে বিশ্বাস করা শিরক। অথচ শিরকের বর্ণিত সংজ্ঞার সাথে লা-ইলাহা ইল্লাল্লছ এর পাশাপাশি মুহাম্মদুর রসূওল্লাহ, লিখার সাথে দূরবর্তী কোন সম্পর্ক ও নেই।

দ্বিতীয়ত- শিরকের বিষয়টি হচ্ছে আরিনা বা বিশ্বাসগত বিষয়। এটা শুধু আমলি কোন বিষয় নয়। সুতরাং আল্লাহর নামের পাশে কারো নাম লিখলেই শিরক হয়ে যাবে, এমনটি নয়। বরং দেখতে হবে লিখলেই নিয়ত বা উদ্দেশ্য কি।

তৃতীয়ত- লা ইলাহা ইল্লাল্লাছ ও মুহাম্মাদুর রসূল্লাল্লছ দুটি সম্পূর্ণ পৃথক বাক্য। লিখদ্ধর সময় পাশাপাশি লিখলেই দুই রাকা বাক্য পরিণত হয় না। আরবী ব্যকরণের এতটুকু জ্ঞান যাদের নেই, ধর্মীয় বিষয়ে বক্তব্যে রাখা বা এ ধরনের ব্যাক্তিদের বক্তব্য শোনাও বৈধ নয়।

চতুর্থত, পবিত্র কোরআনের আয়াত- إِنَّ الَّذِينَ يَكْفُرُونَ بِاللَّهِ وَرُسُلِهِ وَيُرِيدُونَ أَنْ يُفَرِّقُوا بَيْنَ اللَّهِ وَرُسُلِهِ

অর্থাৎ: নিশ্চয় যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলগণের সাথে কুফরী করে আর তারা ইচ্ছে করে আল্লাহ ও তাঁর রসূলগণের মধ্যে বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টি করতে।

আলোচ্য বক্তব্য ও বক্তা বর্ণিত আয়াতের আলোকে কোন পর্যায়ে পড়ছে একবার ভেবে দেখার আজরান রইল। কারণ সংশ্লিষ্ট বক্তাও তো আল্লাহ ও তাঁর প্রিয় রসুল এর মধ্যে বিচ্ছিন্নতার পক্ষে জোরালোভাবে বক্তব্য রেখেছেন। এটাও তো তামরিক বা বিচ্ছিন্নতার অন্তর্ভুক্ত।

পঞ্চমত- আল্লাহ-মুহাম্মদ লিখা নিয়ে ওই বক্তার বক্তব্য তাঁর আনের দৈনতার স্পষ্ট প্রমাণ। কারণ আরবী ব্যাকরণের সাধারণ নিয়ম হলো মুনদাতা বা উদ্দেশ্য হবে (মা’রিফা) আর (খবর) বা বিধেয় হবে (নাজরা)। কিন্তু এখানে আল্লাছ ও মুহাম্মদ দুটি শব্দ মা’রফা। তদুপরি এখানে লেখকের উদ্দেশ্য কি দেখতে হবে। এ বাক্য যারাই কোন স্থানে محمد- الله লিখেছেন নিঃসন্দেহে তাঁদের উদ্দেশ্য হলো আল্লাহ ও রসুলের আসল নামের বরকত অর্জন করা। কোন মুমিন মুষলমানের এ উদ্দেশ্য হতেই পারে না যে আল্লাহ হলেন- মুহাম্মদ (নাউজুবিল্লাহ)। মনে করুন কেউ কোন স্থানে লিখল زيد,عمرو আমর-যায়স। পাঠকমাত্রই বলবে এটা দু’ব্যাক্তির নাম মাত্র। কোন সুস্থ মস্তিস্কের মানুষ বলবে না যে, এর অর্থ আমরা হজে যাই।

অতঃপর কেউ যদি মুহাম্মাদু শব্দটিকে তার শাব্দিক অর্থে ব্যবহার করে আল্লাহ মুহাম্মদ লিখে, যার অর্থে হচ্ছে আল্লাহ তাআলা প্রসংশিত, তখন শব্দটি নির্দিষ্ট ব্যাক্তির নাম হিসেবে বিবেচ্য হবে না। তখনও শিরকের শূন্যতম কোন সম্ভাবনা থাকে না। তখনও শিরকের নূন্যতম কোন সম্ভাবনা থাকে না। ইলমুল বালাগাত বা অলংকার শাস্ত্রের উল্লেখযোগ্য ও বর্তমানেও সকল মাদরাসায় পাঠ্যসূচীয় অন্তর্ভুক্ত কিতাব দুরুসুন বালাগাত এ দুবাক্যের বিচ্ছিন্ন অবস্থান এর উদাহারণ হিসেবে لاله الا الله محمد رسول الله কে পেশ করা হয়েছে। অলংকার শাস্ত্রের পরিভাষার এটাকে مقام فصل (মাক্বামে ফছল) বলা হয়।এ কারণে এ দুবাক্যের মধ্যে (ওয়াউ) বর্ণটি আনা হয়নি। তাই বাক্যটি আরবী ব্যাকরনের আলোকে শুদ্ধ হিসেবে বিবেচিত হবে। আসল কথা হলো এ ধরনের উদ্ভট চিন্তা কেমন ঈমানদার করতে পারে না। যারা করছে তাদের আসল উদ্দেশ্য হল্যে সরল প্রাণ মুসলমানদের বিভ্রান্ত করা তারা বর্ণিত হাদিসের আলোকে দাজ্জাল ধোঁকাবাজ ও বিভিন্ন ধরণের মিশ্যক। তাদের খঞ্জর থেকে আল্লাহ তায়ালা সরণ প্রাণ মুসলমানদের রক্ষা করুন,আমীন।

 

.

 

 

.