✒️লিখক: মুহাম্মদ আবদুল কাদের ছাকিব আল কাদেরী
খতিব: পাঠানটুলী চাট্টশ্বরাই গায়েবী মসজিদ,আগ্রাবাদ,চট্টগ্রাম।
আরবি মুদাররিছ: তৈয়বীয়া তাহেরিয়া সুলতান মোস্তফা কমপ্লেক্স।
——————————————
হুসাইনী আদর্শ যার অপর নাম,উত্তম আদর্শ। আরবিতে(1) اسوة حسنة বা قدوة حسنة। বর্তমান সময়ে আমরা একটি আদর্শ সংকটে ভুগছি। ইসলামি সমাজ বিনির্মাণে প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো: উত্তম আদর্শ।পরিতাপের বিষয় হলেও সত্য যে, আমাদের যুবসমাজ অনৈসলামিক, ইয়াজিদি,দাজ্জালি ফিতনা-চেতনা এবং আাদর্শ কে আপন করে নিয়েছে। এমতবস্থায় কারবালার প্রকৃত চেতনা বা আদর্শ কে উপলব্ধি করা নেহাত জরুরি।
ইসলামী আদর্শ এবং অন্যান্য আদর্শের মধ্যে পার্থক্য:-
——————————————–
ইসলামি চেতনা,হুসাইনী আদর্শ কে পবিত্র কুরআন জান্নাতি আদর্শ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছে। অপরদিকে দূরাচার ইয়াজিদের অনৈতিক অবাধ জীবনযাপন জাহান্নামী আদর্শ হিসেবে সংজ্ঞায়িত। ইরশাদ হচ্ছে (2)
لا يستوى أصحاب النار وأصحاب الجنة : أصحب الجنة هم الفاءزون .
মোদ্দাকথা হলো, নেককার এবং বদকার কখনো তুলনার বিচারে এক হতে পারে না। সচ্চরিত্রবান এবং অসচ্চরিত্র ব্যক্তি এক নয়। সফল এবং ব্যর্থ ব্যক্তি এক নয়।তদ্রূপ জান্নাতি এবং জাহান্নামিও এ নয়। অতএব, মহান রব্বে কারীম এর পবিত্র দরবার থেকে এই ইঙ্গিতই আসছে-জান্নাতের সরদার, নবীজি (দরূদ) এর দৌহিত্র, সাইয়্যেদা বাতুল(রা) নাড়িছেড়া ধন, মাওলা হায়দার’র বীর ঔরষ; ইমাম হুসাইন এর চরিত্র এবং আদর্শ কোনো অবস্থায় নাপাক- দূরাচার এজিদের চরিত্র এক নয়। ইসলামি আদর্শ এবং হুসাইনী আদর্শ এক অনন্য আদর্শ।
★ প্রিয় নবী(দরূদ)র আদর্শই হুসাইনী আদর্শ:
————————————
ওহে, ফিতনার দাওরে বসবাসরত যুব সমাজ! তোমরা কি জানো? হুসাইন (রা) কোন পাঠশালার বিদ্যার্থী। কোন মহান পাঠশালা তাঁকে আপোষহীনতার সবক দিলো? পবিত্র কুরআন এ প্রশ্নগুলোর জবান দিচ্ছে,
لقد كان لكم في رسول الله أسوة حسنة
আর রাসুলে কারিম(দরূদ)র জীবনে তোমাদের জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ।(3)
★ইয়াজিদের কিছু জঘন্য স্বভাব যা ঈমানী আদর্শের বিপরীত:
—————————————————–
ইমানদারের জীবনের প্রতিটি মূহূর্ত মহান আল্লাহ তায়ালার অপার দয়া, অনুকম্পা এবং মেহেরবানিতে পরিপূর্ণ। মুমিনের সুমহান চারিত্রিক স্বভাব এমনই যে, ফিরিশতা, নবি রাসুল (আ)গণ তাঁদের জন্য দোয়ায় মগ্ন। অপরদিকে একজন ফাসিক ফাজির, পাপিষ্ট- দূরাচার ব্যাক্তির জীবন ইমানদার, ফিরিশতা এবং নবি রাসুলগণের অভিশাপে পরিপুর্ণ। যেমনিভাবে হাদিসে পাকে এসেছে
: ستة لعنتهم ، ولعنهم الله وكل نبي كان -الزائد في كتاب الله والمكذب بقدرة الله ، والمتسلط بالجبروت -ليعز بذلك من أذل الله ويذل من أعز الله. والمستحل لحرم الله والمستحل من عترتى ما حرم الله ،والتارك لسنتي.
হযরত আয়েশা (রা) হতে বর্ণিত, প্রিয় নবী (দরূদ) ইরশাদ করেন; ছয় শ্রেণির ব্যাক্তির ওপর আল্লাহ, তাঁর রাসুলগণ এবং আমার অভিশাপ।আল্লাহ তায়ালার কিতাব (কুরআন) কাটছাঁটকারী, আল্লাহ তায়ালার কুদরাত কে মিথ্যপ্রতিপন্নকারী, জবরদখলকারী, সম্মানিত এবং নন্দিত ব্যক্তি কে অসম্মানকারী এবং নিন্দিত ব্যক্তি কে সম্মান প্রদানকারী।হারামাইন শরীফাইনের অমর্যাদাকারী এবং আল্লাহ তায়ালার হারাম কে হালাল কারী, এবং আমার সুন্নাহ পরিত্যাগ কারী। (4)
ওহে, আধুনিক যুগের যুবক! শরিয়াত পরিত্যাগকারী, হুসাইনী আদর্শ বিমুখ, নবীজীর সুন্নাহ ভুলে গিয়ে নায়িকা-গায়িকার পেছনে লোলুপদৃষ্টে ঘুরে বেড়ানো যুবক। বড় ভাই,নেতা, লিডার নামক শয়তানের প্ররোচনায় প্ররোচিত যুবক। একটিবার কি মিলিয়ে দেখবে? তুমি এবং ইয়াজিদের চরিত্র। ভেবে কি দ্যাখো? তুমি এবং হুসাইন কতোটা যোজন যোজন দূরত্বে অবস্থান করছো? জীবনের এই সোনালীপাতা কে অভিশপ্ত কয়লায় ফেলে দিয়েছ। আধুনিকতার এই ময়লা শুধু তোমার সোনালী যৌবন কেই নষ্ট করছে তাই নয়; নষ্ট করছে সম্ভাবনার একটি জগত। তোমায় নিয়ে দেখা হাজারো স্বপ্ন।একটি সুন্দর সমাজ এবং দেশ।
এসো। কোনো এক মুত্তাকী, আল্লাহর অলীর দামান ধরি। ইয়াজিদি আদর্শ কে বিনাস করে হুসাইনী আদশে হও আগোয়ান।
——————————————-
1- আল মু’জামুল ওয়াফী; ড. ফজলুর রহমান।
2- আল কুরআন, সূরা হাশর, ৫৯:২০
3- আল কুরআন, সূরা আহযাব, ৩৩:২১
4- জামে আত তিরমিজি, খ:০৪, পৃ: ২৭, হাদিস নং: ২১৫৪