যিলহজ্ব মাসের নফল ইবাদত

মূল: আল্লামা আলম ফকরী

অনুবাদ: মাওলানা মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন আবেদী

 

ইসলামী সনের দ্বাদশ মাসকে ‘যিলহজ্ব’ বলা হয়। কেননা এ মাস হজ্ব করার জন্য নির্দিষ্ট। এ কারণে এ মাসের নাম ‘যিলহজ্ব’ রাখা হয়েছে। এ মাসের প্রথম দশ দিনের নাম কুরআনে পাকে ‘আইয়ামে মা’লুমাত’ তথা নির্দিষ্ট দিন সমূহ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। সুতরাং এ মাসটি আল্লাহ তা’আলার নিকট খুবই প্রিয়। মাসের প্রথম দশ দিনকে অত্যন্ত বরকতময় হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, আবার সেগুলোকে ‘আ’শারায়ে যুল হজ্বা’ বা যিলহজ্বের দশ দিন বলা হয়। এ মাসের কতেক গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে, এর কতেক নিম্নে পেশ করা হলো।

* এ মাসের প্রথম তারিখ খাতুনে জান্নাত হযরত ফাতিমাতুয্যাহরা রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহা’র সাথে হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

* এ মাসের আট তারিখকে یوم ترویه )ইয়াওমে তারবিয়াহ) বলা হয়। কেননা হাজী সাহেবান এ দিন স্বীয় উটকে উত্তমরূপে পানি দ্বারা স্নান করাবেন, যাতে করে আরাফার দিন পর্যন্ত এগুলোর তৃষ্ণা না পায়। অথবা এ জন্য একে ‘ই’য়াওমে তারবিয়াহ’ (চিন্তা/ইচ্ছা পোষণ) বলা হয়। সাইয়্যিদিনা হযরত ইব্রাহীম আলায়হিস্ সালাম যিলহজ্ব মাসের অষ্টম তারিখে রাতে স্বপ্নযোগে দেখলেন যে, অদৃশ্য থেকে কেউ বলছেন-“ইব্রাহীম! মহান আল্লাহ পাক তোমাকে হুকুম দিচ্ছেন যেন তোমার প্রিয় বস্তুকে আল্লাহর জন্য কোরবানী করে দাও।” তখন তিনি সকালে এটা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করেছিলেন। এ মাসের নবম দিবসকে ‘ই’য়াওমে আরাফাহ (পরিচয় বা চেনার দিন) বলা হয়। কেননা হযরত সায়্যিদিনা ইব্রাহীম আলায়হিস্ সালাম নয় তারিখের পূর্ব রাতেও একই স্বপ্ন দেখেন। ফলে তিনি বুঝতে পারলেন যে, এ স্বপ্ন মহান আল্লাহ পাকের পক্ষ থেকে হয়েছে। এবং তাঁর প্রিয় সন্তান ইসমাঈলকে কোরবানী করার নির্দেশ দিচ্ছেন। আর এ মাসের ১০ তারিখ ওই কোরবানীর দিন। এ মাসের একাদশ, দ্বাদশ, ও ত্রয়োদশ দিবসকে ‘আইয়্যামে তাশরীকু’ বলা হয় এবং এ মাসের দ্বাদশ তারিখে হুজুর কারীম সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম সায়্যিদিনা হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু’র সাথে সুদৃঢ় সম্পর্কের কথা ঘোষণা করেছিলেন।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ

ফরমান-‘মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যিলহজ্বকে সম্মা ও শ্রেষ্ঠত্বের মাস বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি আ ফরমান-এ মাসের দশদিন খুবই বরকত পূর্ণ এবং ইবাদাহ মাধ্যমে অনেক পুণ্য অর্জনের। তিনি (সাল্লাল্লাহু তা’ আলায়হি ওয়াসাল্লাম) আরো ফরমান-দশ দিনের মধ্যে ৬ দিন বেশি করে আল্লাহ পাকের ইবাদত করো। ই’য়াগপ তারবিয়াহ অর্থাৎ আট তারিখ ই’য়াওমে আরাফা অর্থাৎ ২০ তারিখ এবং নাহার অর্থাৎ দশ তারিখ এ দিনগুলো অন্য দিনের চেয়ে অত্যন্ত বরকতময়, এ দিনগুলোতে ইবাদাতে মধ্যে অসীম সওয়াব রয়েছে।

সুতরাং এ পবিত্র মাসে অধিক নফল নামায, রোধ তিলাওয়াতে কুরআন, তাসবীহ, তাহলীল ও তাবলী অধিকহারে আদায় করা অত্যন্ত উপকারী।

যিলহজ্ব মাসের দশম তারিখের নফল ইবাদত হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত, বাদ

সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম ইরও ফরমান- “যিলহজ মাসের দশ তারিখ এসে পড়লে, ইবাদাজ দিকে মনোনিবেশ কর। যিলহজ্ব মাসের দশ দিনকে ক আল্লাহ পাক সম্মানিত করেছেন, শুধু তাই নয় দশ রাতকে। দিনগুলোর ন্যায় সম্মানিত করছেন। যদি কোন ব্যক্তি। দশদিনের রাতের শেষ তৃতীয়াংশে চার রাকআত নামায়। নিয়মে আদায় করে তাহলে সে ব্যক্তি বায়তুল্লাহ শরীষের ।। সম্পাদন ও রওযায়ে মোস্তফা সাল্লাল্লাহু তা’আলা আঅন্যান ওয়াসাল্লাম যিয়ারতকারীদের ন্যায় পূণ্য অর্জন করবে ৫জ মহান আল্লাহ পাক থেকে যা কিছু প্রার্থনা করবেন সর্বজি তাকে প্রদান করা হবে। নামাযের নিয়ম ও ধারাবাহিকতা হ্যা নিম্নরূপ- প্রত্যেক রাকআতে সূরা ফাতিহার পর সূরা জন্য সূরা নাস একবার করে, সূরা ইখলাস তিনবার করে এ আয়াতুল কুরছী তিনবার করে পাঠ করবেন। নামায আদা শেষে দুই হাত তুলে নিম্নোক্ত দো’আ পাঠ করবেন-

المحال ذِي العِزَّةِ وَالْجَبَرُوتِ سُبْحَانَ ذِي الْقُدْرَةِ اللكُوتِ سُبْحَانَ الْحَيِّ الَّذِي لَا يَمُوتُ سُبْحَانَ اللَّهِ رَبِّ عددٍ وَالْبَلَادِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا عَلَى كُلِّ حَالِ اللهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا رَبَّنَا جَل جَلالَهُ وَقُدْرَتُهُ بِكُلِّ مَكَان

উচ্ছারণ-সুবহানা যিলইজ্জাতি ওয়াল জাবারুতি ছুবহানা যিলকুদরাতি ওয়ালমালাকৃতি ছুবহানাল হায়্যিল্লাযি লা-ইয়ামুত হুবহানা রাব্বিলই’বাদি ওয়াল বিলাদি ওয়ালহামদুলিল্লাহি কাছীরান তায়্যিবাম মোবারকান আ’লা কল্লিহালিন আল্লাহু আকবারু কাবীরান জাল্লাজালালুহু ওয়াকুদরাতুহু বিকুল্লি মাকানিন।

উপরোল্লেখিত দোআ’ পাঠ করে যেটা ইচ্ছা সেটা প্রার্থনা করবেন। এ নামায দশ দিনের প্রত্যেক রাতে যদি আদায় করা হয়, তাহলে মহান আল্লাহ পাক তাকে জান্নাতুল ফেরদৌসের অতি উচ্চাসনে আসীন করবেন এবং তার জীবনের সব গোনাহ ক্ষমা করে দেবেন। অতঃপর তাকে বলা হবে এখন আবার নব আঙ্গীকে আমল শুরু কর। আর যদি আরাফার দিন রোযা রেখে, রাতে নামায আদায় করে এ দোআ’ পাঠান্তে সে মহান আল্লাহ রাব্বুল আ’লামীনের দরবারে অতি নম্রতা ও বিনয় প্রকাশ করে, তখন তিনি ফিরিশতাদের ফরমান- হে আমার ফিরিশতা! আমি এ বান্দাহকে ক্ষমা করে দিয়েছি এবং হজ্ব সম্পাদন কারীদের মধ্যে তাকে অন্তর্ভুক্ত করেছি। ফিরিশতারা আল্লাহ তাআ’লার এ পুরস্কার প্রদানে অত্যন্ত

আনন্দিত হয়ে বান্দাহকে শুভ সংবাদ দিতে থাকেন।

রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম

(গুনিয়াতুত্তালিবীন।

ফরমান- যে, ব্যক্তি যিলহজ্ব মাসের দশ রাতের প্রত্যেকরাতে বিতির নামাযের পর দুই রাকআত নামায এ নিয়মে আদায় করবে যে, প্রত্যেক রাকআতে সূরা ফাতিহার পর সূরা কাউসার এবং সূরা ইখলাস তিনবার করে পাঠ করবে। এর প্রতিদানে মহান আল্লাহ পাক ঐ ব্যক্তিকে অতি উচ্চাসনে অন্তর্ভূক্ত করবেন। শুধু তাই নয় তার প্রত্যেকটা চুলের পরিবর্তে হাজার নেকী এবং হাজার দীনার সদকা দেয়ার পুণ্য তাঁর আমল নামায় লিপিবদ্ধ করা হবে। [ফাদাইলুশ শুহুর।

*মাহে যিলহজ্বের প্রথমরাত নামাযে এশা আদায়ান্তে দুই রাকআত নিয়তে চার রাকআত নামায আদায় করবে। প্রত্যেক রাকআতে সূরা ফাতিহার পর সূরা ইখলাস পঁচিশবার করে পাঠ করবে। মহান আল্লাহ পাক সে নামায আদায়কারীকে অসংখ্য সওয়াব প্রদান করবেন।

*মাহে যিলহজ্বের প্রথমরাত থেকে দশমরাত পর্যন্ত প্রত্যহ এশা নামাযের পর দুই রাকআত নামায এভাবে আদায় করবেন-প্রথম রাকআতে সূরা ফাতিহার পর আয়াতুল কুরছি একবার, সূরা ইখলাস পনেরবার পাঠ করবে। এ নামায আদায়কারীর গোনাহ যদি (মরুভূমির) বালির সমপরিমাণও

হয়ে থাকে, তথাপিও মহান দয়ালু স্বীয় পরিপূর্ণ শক্তিমত্ত্বার গুণে ইনশাল্লাহ ক্ষমা করে দেখেন।”

* প্রথম রাত থেকে দশমরাতের প্রত্যহ এশা নামাযের পর দুই রাকআত নামায আদায় করবে। প্রত্যেক রাকআতে সূরা ফাতিহার পর সুরা কাওছার তিনবার, সূরা ইখলাস তিনবার করে পাঠ করবে। ইনশাল্লাহ তা’আলা এ নামাযের বরকতে মহান আল্লাহ পাক তার আমল নামায় পুণ্য লিপিবদ্ধ করে অধিক পরিমাণ গোনাহ ক্ষমাহ করে দেবেন।

*যিলহজ্ব মাসের প্রথম বৃহস্পতিবার রাত এশা নামানের পর দুই রাকআত নামায আদায় করবে। প্রত্যেক রাকআতে সূরা ফাতিহার পর সূরা কাওছার একবার, সূরা ইখলাস একবার পাঠ করবে। সঠিক মনোভাব তথা একনিষ্ঠতার সাথে এ নামায আদায়কারী তার জীবদ্দশাই স্বীয় ঠিকানা বেহেশতেই দেখতে পাবে ইনশাল্লাহ তা’আলা।

*যিলহজ্ব মাসে জুমআ’র দিন যে কেউ ছয় রাকআত নামায আদায় করে প্রত্যেক রাকআতে সূরা ফাতিহা পাঠের পর সূরা ইখলাস পনেরবার করে পাঠ করবে এবং সালাম ফিরানোর

لا إله إِلَّا اللهُ الْمَلِكُ الْحَقُّ الْمُبِينُ – a

(লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহুল মালিকুল হাক্কুল মুবীনু) পাঠ করে এবং নামায কবুল ও গোনাহ ক্ষমার জন্য আল্লাহ তা’আলার পবিত্র দরবারে প্রার্থনা করে, ইনশাল্লাহ তা’আলা আল্লাহ পাক পূর্ণ শক্তিমত্ত্বায় এ নামায আদায়কারীর গোনাহ ক্ষমা করে তাকে বেহেশতে প্রবেশ করার সুযোগ দান করবেন।

ওয়াযিফা সমূহ

যিলহজ্ব মাসের প্রথম ও ষষ্ঠ তারিখে ফজর অথবা যোহরের নামায আদায়ের পর নিম্নোক্ত কলেমাটি ১০০ বার পাঠ করবেন-

لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمَدُ يحْيِ وَيُمِيتُ وَهُوَ حَيٌّ لَا يَمُوْتُ بِيَدِهِ الْخَيْرُ وَهُوَ عَلَى

كُلِّى شَيْءٍ قَدِيرٌ

উচ্চারণ-লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শরীকালাহু লাহুলমুলকু ওয়ালাহুল হামদু ইয়ুহয়ী ওয়া ইয়ুমীতু ওয়াহুয়া হাইয়্যূন লা-ইয়ামুতু বিইয়াদিহিল্ খায়রু ও ওয়াহুয়া আ’লা কুল্লি শায়ইন ক্বাদীর)

যিলহজ্ব মাসের দ্বিতীয় অথবা সপ্তম তারিখে ফজর অথবা যোহরের নামাযের পর নিম্নোক্ত কালেমটি ১০০ বার পাঠ করবেন-

اشهَا، أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ إِلَهَا وَاحِدًا
أَحَدًا صَمَدًا فَردًا وترا ولم يتخذ صاحبة ولا ولدًا

উচ্চারণ- আশহাদু আনলা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লাশারীকালাহু ইলাহান ওয়াহিদান, আহাদান ছামাদান ফারদান বিতরান ওয়ালাম ইয়াত্তাখি ছাহিবাতান ওয়ালা ওয়ালাদান।

মাহে যিলহজ্বের তৃতীয় ও অষ্টম তারিখে নামাযে ফজর অথবা যোহরের পর নিম্নোক্ত কলেমাটি ১০০ বার পাঠ করবেন-

أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ أَحَدًا صَمَدًا

لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ

উচ্চারণ- আশহাদু আনলা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লাশারীকা লাহু আহাদান, ছামাদান লাম ইয়ালিদ, ওয়ালাম ইওলাদ ওয়ালাম ইয়া কুললাহু কুফুওয়ান আহাদুন।

ফিলহজ্ব মাসের চতুর্থ ও নবম তারিখে ফজর অথবা যোহর নামাযের পর নিম্নোক্ত কলেমাটি ১০০বার পাঠ করবেন-

أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلهُ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُপ্রবন্ধ

জাগ্রতাবস্থায় সারারাত ইবাদত করার যে পূণ্য রয়েছে, ঐ রাক্তিও একই ধরনের পণ্য অর্জন করবে।

সেহীহ তিরমীযী শরীফ-১ম খন্ড। হযরত আ’তা বিন আবু রাবাহ রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু

ফরমান- ‘হযরত আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করতে আমি শুনেছি, রাসূল করীম সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এর পবিত্র যুগে এক ব্যক্তি গান শুনার খুবই আগ্রহী ছিল, কিন্তু যিলহজ মাসের চাঁদ দেখেই সকাল থেকে রোযা রাখতেন। এ সংবাদ হুযুর আকরাম সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছেছে। তিনি (সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম) ফরমান- ওই ব্যক্তিকে এখানে ডেকে নিয়ে আস। সে ব্যক্তি দরবারে রেসালতে এসে উপস্থিত হলে হুযুর করীম সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করলেন- তুমি এ দিনগুলোতে কেন রোষা রখেছো? (এমন কোন ধরনের বিষয় রয়েছে কি তোমাকে এদিনগুলোতে রোযা রাখতে উৎসাহ প্রদান করেছে?) লোকটি বললেন- এদিনগুলো হচ্ছে হজ্বের দিন এবং ইবাদতের দিন। আমার একটি আকাঙ্ক্ষা হলো; মহান আল্লাহ রাব্বুল আ’লামীন তাঁদের (হাজ্বী সাহেবানদের) দোআ’র সাথে আমাকেও অন্তর্ভুক্ত করে নেন। হুযূর করীম সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ ফরমান -তুমি যে রোযা রাখছ এর প্রত্যেক রোযার বদলাতে তোমাকে একশত গোলাম আযাদ করার, কুরবানির জন্য হেরেম শরীফে একশত উট প্রেরণ করার এবং মহান আল্লাহর পথে জিহাদের বাহনের জন্য একশত ঘোড়া দান করার সওয়াব অর্জন করবে। আর তারবীয়ার দিন যে রোযা রাখে এক হাজার ক্রীতদাস স্বাধীন করার, এক হাজার উট কুরবানির জন্য হেরেম শরীফে পৌঁছানো এবং এক হাজার ঘোড়া মহান আল্লাহর পথে জিহাদে বাহনের জন্য উৎসর্গ করার সওয়াব অর্জন করবে।

আরাফার দিন রোযাদারের রোযার বদলাতে দুই হাজার

ক্রীতদাস আযাদ করার, দুই হাজার উট কুরবানির জন্য হেরেম শরীফ পৌছানোর এবং দুই ঘোড়া আল্লাহ তা’আলার পথে জিহাদে দান করার পুণ্য অর্জন করবে। শুধু তাই নয় রোযার সওয়াব বছরের শুরু এবং শেষে সারাটা বছর অর্জন করতে থাকবে।

(গুনিয়াতুত্তালিবীন।

হযরত আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু ফরমান- এ দিনগুলো অর্থাৎ আইয়ামে তাশরীকের কোন একদিনে পূণ্য কাজ করা, আল্লাহ তা’আলার নিকট অন্যান্য দিনে পূণ্য কাজ করার চাইতে উত্তম। সাহাবায়ে কেরাম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম

আরজ করলেন আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করাও এর চাইতে উত্তম নয়। হাঁ যদি কেউ আল্লাহ তা’আলার রাস্তায় স্বীয় জানমাল নিয়ে বের হয় (অর্থাৎ জানমাল দুনোটি কুরবান করে দেয় তবে সে জিহাদই উত্তম)। উম্মুল মুমিনীন হযরত হাফছা রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি ফরমান”রাসূল করীম সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম চারটি আমল কখনো ত্যাগ করতেন না। তা হলো (ক) যিলহজ্ব মাসের দশ দিনের রোযা (খ) আশুরার রোযা (গ) আইয়ামে বীযের রোযা অর্থাৎ প্রত্যেক মাসের ১৩-১৪-১৫ তারিখের রোযা এবং ফজর নামাযের পূর্বে দুই রাকআত নামায”।

হযরত জাবির বিন আবদুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুমা থেকে বর্ণিত, হুযূর করীম ইরশাদ ফরমান- যে ব্যক্তি যিলহজ্ব মাসের দশ দিন রোযা রাখে, মহান আল্লাহ পাক প্রত্যেক রোযার পরিবর্তে তার আমল নামায় পূর্ণ একবছরের রোযার ছওয়াব লিপিবদ্ধ করবেন।

গুনিয়াতুত্তালিবীন্য

ইয়াওমে তারবীয়া- ৮ যিলহজ্ব

যিলহজ্ব মাসের অষ্টম দিবসের নাম ‘ইয়াওমে তারবীয়া’ এ দিন হাজী সাহেবান মক্কা মোকাররামা থেকে মিনার দিকে রওয়ানা হন। এদিন তারা যমযমের পানি খুবই সন্তুষ্ট চিত্তে পান করেন। এ জন্য এদিনকে ترویه )তারবীয়া) বালা হয়। تروية আরবী শব্দটি تفعِلَة )তাফইলাতুন) শব্দের ওযনে ব্যবহৃত। এর শাব্দিক অর্থ হচ্ছে- জলপূর্ণ করা। ارتوى

(আরতাভী) থেকে গঠন করা হয়েছে। এর অর্থ হচ্ছে ‘পানি পান করেছে এবং গোসল করেছে’। এদিন হাজী সাহেবান অধিকহারে যমযমের পানি পান করেন।

এর নাম করণের আরো একটি কারণ এও রয়েছে- ‘তারবীয়া’ এর অর্থ ‘চিন্তা বা গভীর ধ্যানে মগ্ন হওয়া’। হযরত ইব্রাহীম আলায়হিস সালাম আট তারিখ স্বপ্নে দেখেছিলেন যে, স্বীয় পুত্রকে যবেহ করছেন। সকালে চিন্তায় পড়ে গেলেন এবং গভীর ধ্যানে মগ্ন হয়ে পড়লেন যে, এ স্বপ্নটি শয়তানের পক্ষ থেকে না আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে। এটা নিয়ে দিনভর চিন্তায় মগ্ন রইলেন। আর যখন আরাফার রাত আসল। অদৃশ্য থেকে বলা হলো- “যেটা তোমাকে বলা হয়েছে তা বাস্তবায়ন কর”। তখনি তিনি বুঝতে পেরেছে যে, এ স্বপ্ন মহান আল্লাহ পাকের পক্ষ থেকে হয়েছে। এটার উপর ভিত্তি করে এর নাম ‘তারবীয়া’ রাখা হয়েছে, আর নবম তারিখ يوم عرفه

(ইয়াওমে আরাফা বা পরিচিতির দিন) হিসেবে নাম করণ

করা হয়েছে।

[গুনিয়াতুত্তালিবীন।

যিলহজ্ব মাসের অষ্টম তারিখ রাত এশার নামাযের পর দুই রাকআতের নিয়তে ঘোল রাকআত নামায আদায় করার

(۲) خرج في
الْحَمْدُ يُحْيِي وَيُمِيتُ بِيَدِهِ الْخَيْرُ وَهُوَ عَلَى كُلِّى شَيْءٍ قَدِيرٌ

উচ্চারণ আশহাদু আলাইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শরীকালাহু লাহুলমুলকু ওয়ালাহুল হামদু ইয়ুহয়ী ওয়াইয়ুমীতু বিইয়াদিহিল খায়রু ওয়াহুয়া আ’লা কুল্লি শায়ইন ক্বাদীরুন।

যিলহজ্ব মাসের পঞ্চম অথবা দশম তারিখে ফজরের নামায অথবা যোহরের নামাযের পর নিম্নোক্ত কলেমাটি ১০০বার পাঠ করবেন-

حَسْبِيَ اللَّهُ وَكَفَى سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ دَعَالَيْسَ وَرَاءَ لِلَّهِ

الْمُنْتَهَى سُبْحَانَ لَمْ يَزَلْ كَرِيمًا وَلَا يَزَالُ رَحِيمًا

উচ্চারণ- হাছবিয়াল্লাহু ওয়াকাফা ছামিআল্লাহু লিমান্ দাআ’ লায়ছা ওয়ারাআ লিল্লাহিল মুনতাহা ছুবহানা লাম ইয়াযাল, ক্বারীমান ওয়ালা ইয়াযালু রাহীমান।

হুযূর করীম সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ

ফরমান এ কালেমাগুলো মর্যাদাশীল ও মনোনীত। যিলহজ্ব মাসের দশতারিখে পর্যন্ত এগুলো পাঠ করার মধ্যে কার্যকরী ফলাফল রয়েছে আর এ বরকতপূর্ণ কলেমা সমূহ পাঠ করার প্রারন্তে আল্লাহ তা’আলার অসংখ্য ইবাদত করার সওয়াব প্রদান করা হয়। দ্বিতীয়ত- দশহাজার সওয়াব তার আমলনামায় লিপিবদ্ধ করা হয়। আর দশহাজার গোনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়। তৃতীয়ত- অসংখ্য ফিরিস্তা তার জন্য রহমতের দোআ’ করে থাকন, চতুর্থত তার আমলে এটা

সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়, পঞ্চমত কালামে পারদ তেলাওয়াতের সওয়াব ইনশাল্লাহ আল্লাহ রাব্বুল ইযয়াদে দরবার থেকে প্রদান করা হয়।

যিলহজ মাসের দশতারিখে ওযু সহকারে কোন এক সম সূরায়ে ফজর পাঠ করা উত্তম। তিনি ফরমান- যে কেউ বরকতপূর্ণ দিন সমূহের মর্যাদার দিকে লক্ষ্য রেখে সূরা ব তেলাওয়াত করেন। মহান আল্লাহ রাব্বুল আ’লামীন হিন্দে দিন তাকে ক্ষমা করে দেবেন। তার জন্য সেদিন কোন জ থাকবে না।

যিলহজ্ব মাসের দশদিন পর্যন্ত অধিকহারে ‘সূরা ঘোহা’ প করার খুবই ফযিলত রয়েছে। তিনি ইরশাদ ফরমান-অভপাক এ সূরা পাঠকারীকে ইনশাল্লাহ দোযখের অগ্নি দেও পরিত্রাণ দেবেন।

যিলহজ্বে নফল রোযা

হুযুর সাইয়্যেদে আ’লম ইরশাদ ফরমান ‘যে ব্যক্তি দি মাসের প্রথম দিন রোজা রাখে, সে যেন কোন প্রকালে আরাম আয়েশ ব্যতিরেকে দুই হাজার বছর অবিরাম লাগার আল্লাহ পাকের রাস্তায় জিহাদ করল। দ্বিতীয় তারিখে রেছ রাখার সওয়াব হলো দুই হাজার বছর আল্লাহ তা’আলা ইবাদত। তৃতীয় দিন রোযা রাখলে হযরত ইসমাঈ আলায়হিস সালাম এর বংশধর থেকে তিন হাজার ক্রীজ্য স্বাধীন করার সওয়াব অর্জন করবে। চতুর্থ দিনের রোজা চারশত বছর ইবাদত করার সওয়াব পাবে। পঞ্চম দিনে রোজায় পাঁচ হাজার বস্ত্রহীনকে বস্ত্র পরিধানের সওয়াব পারে ষষ্ঠ দিনের রোজায় ছয় হাজার শহীদের সওয়াব পাবে। সায় দিন রোজা পালনকারীর উপর দোযখের সাতটি দরজার হয়ে যাবে। অষ্টম দিনে রোযা পালনকারীর উপর বেহেশার। আটটি দ্বার উন্মুক্ত করা হবে।

অন্য এক রেওয়ায়তে রয়েছে যে কেউ যিলহজ্ব মাসের প্রথয় দিন রোযা রাখবে, সে যেন ছত্রিশ হাজার বার কুরআন হয়। করল।

হযরত আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহ তা’আলা আনহু থেকে বরি রয়েছে- হুযুর সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলায়হি ওয়াসারম ফরমান এ মাসের প্রথম দশ দিনে আল্লাহ তা’আলার নিউ একথাটি অত্যন্ত প্রিয় যে, যথাসাধ্য পরিশ্রম ও চেষ্টা ক্যা ইবাদতকারী হওয়া, এ দিনগুলোর মধ্যে ইবাদত করা তাঁর নিকট এত অধিকপ্রিয়, যা অন্যান্য দিনগুলোতে ভট্টা নয়। এ দশদিনের প্রত্যেক দিনের রোযার বদলাতে একবা রোযার প্রতিদান রয়েছে এবং প্রত্যেক রাতে ইবাদত করা মাধ্যমে জাগ্রতাবস্থায় অতিবাহিত করলে, শবে বৃদ্ধারা
ফযিলত রয়েছে। প্রত্যেক রাকআতে সূরা ফাতিহার পর আয়াতুল কুরসি একবার এবং সূরা ইখলাস পনেরবার করে পাঠ করবেন। এ নামাযের অত্যধিক পুণ্য রয়েছে। বিশেষ করে এ নামায গোনাহ ক্ষমার জন্য অত্যধিক উপকারী।

আরাফার রাত ও দিন

হযরত জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রয়েছে, রাসূল আকরাম সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ ফরমান “আরফার দিনের চেয়ে শ্রেষ্ঠ আর কোন দিন নেই। মহান আল্লাহ পাক ওই দিন পৃথিবীবাসীর মাধ্যমে আসমানবাসীদের উপর গর্ববোধ করে ফরমান- আমার এ সব বান্দাহকে দেখ! এলোমেলো চুল নিয়ে বিক্ষিপ্ত অবস্থায় দূর-দূরান্ত থেকে আমার করুণার প্রত্যাশায় আমার নিকট ছুটে এসেছে। সুতরাং আরাফার দিনের চেয়ে এত অধিক বান্দাহকে আর অন্য কোন দিন দোযখ থেকে পরিত্রাণ দেয়া হয় না। এ দিন যত অত্যাচারী জাহান্নামের শাস্তি থেকে মুক্তি লাভ করে, অন্য আর কোন দিনে তা হয়না।

হযরত নাফি রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে হযরত ইবনে ওমর রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু বর্ণনা করেন বলেন- ‘আমি হুযূর কারীম সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছি, তিনি (সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম) ফরমান মহান আল্লাহ পাক আরাফার দিন বান্দাহদের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেন, এমতাবস্থায় যার অন্তরে সামান্যতমও ঈমান থাকে, অবশ্যই তাকে ক্ষমা করে দেয়া হয়। আমি হযরত ইবনে ওমর রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুকে জিজ্ঞেস করলাম -এ ক্ষমা প্রদর্শন কি সমস্ত মানুষের জন্য, না শুধু আরাফাবাসীর জন্য তিনি বলেন- এ ক্ষমা প্রদর্শন সমস্ত মানুষের জন্য।

হযরত আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল কারীম সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ ফরমান “যে ব্যক্তি আরাফার দিন যোহর এবং আসরের মধ্যখানে চার রাকআত নামায এ নিয়মে আদায় করবে- প্রত্যেক রাকআতে সূরা ফাতিহার পর সূরা ইখলাস ৫০ বার করে পাঠ করবে, তার জন্য হাজার নেকী লিপিবদ্ধ করা হবে। কুরআন শরীফের প্রত্যেকটি শব্দের পরিবর্তে জান্নাতে তার মর্যাদা এতটা উচু করা হবে, যার দূরত্ব পাঁচশত অক্ষরের বদলাতে আল্লাহ তা’আলা সত্তরটি জান্নাতি হুর তাকে প্রদান করবেন। প্রত্যেক হুরের সাথে সুতী ও ইয়াকুত নামী অত্যন্ত মূল্যবান পাথরের সত্তরটি ট্রে থাকবে, প্রত্যেকটি ট্রের মধ্যে হাজারো ধরনের রঙ বেরঙের সুস্বাদু খাবার থাকবে।

এর মধ্যে সত্তর হাজার প্রকারের গোস্ত থাকবে সবুজ শুদ্ধ খাবার গুলো বরফের ন্যায় ঠান্ডা, মধুর ন্যায় মিষ্টি এবং এর সঘ্রাণ হবে। এ খাদ্যগুলোকে আগুন দ্বারা পোড়ানো ৮ এবং লোহা দ্বারা (গোস্ত) কাটা হয়নি। এর প্রত্যেকটি পূর্ববর্তী গ্রাসের চেয়ে সুস্বাদু হবে। তার পাশে এমন এক আসবে, যেটার ঠোঁট স্বর্ণ ও ইয়াকুতের। এপাখিটির সং হাজার ডানা থাকবে। পাখিটি এমন সুললিত সুরে আধ ইতোপূর্বে এমন সুমধুর সুরের ডাক কেউ শ্রবণ কঙে পাখিটি বলতে থাকবে হে আরাফাতবাসী। আপনাচ সাধুবাদ!

হয়র কারীম সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম। সম্পর্কে বলেন অতঃপর সে পাখিটি ওই ব্যক্তির পেয়া গিয়ে পড়বে আর সে পাখিটির প্রত্যেক ডানার নিচ দে সত্তর প্রকারের খাবার বের হবে। জান্নাতীরা সেখান যেক ইচ্ছেমতো খাবার খাবে, অতঃপর সেটা উড়ে চলে যাবে। নামায আদায়কারীকে মৃত্যু বরণের পর যখন কবরে যা হবে তখন করআন পাকের প্রত্যেক হরফের আলোতে জ কবর উজ্জ্বলময় হয়ে উঠবে। এমনকি ঐ প্রখর আলোচ বায়তুল্লাহ শরীফের তাওয়াফকারীকে পর্যন্ত সে দেখতে পাঠ তার জন্য জান্নাতের মর্যাদা দেখানো হবে, যেটা তার জ আরযি পেশ করবে, হে আল্লাহ! আপনি কিয়ামত কায়েম ক দিন;

হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু ও হযরত আবন্যা। বিন মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুমা থেকে বড়ি রাসূল কারীম সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলায়হি ওয়াসাল্ল ইরশাদ ফরমান “যে ব্যক্তি আরাফা দিবসে দুই রাকা নামায আদায় করবে, প্রত্যেক রাকআতে সূরা ফাতিহা কি বার করে (বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম সহকারে) পাঠো পর সূরা কাফিরুন তিন বার এবং সূরা ইখলাস একবার কা পাঠ করবে। প্রত্যেক সূরা বিসমিল্লাহির রাহমানির রাকি সহকারে আরম্ভ করবে, তখন আল্লাহ তা’আলা এ যেন দেন যে, তোমরা সাক্ষী থাক, তার গোনাহ ক্ষমা করে নে হয়েছে।

ওযীফা সমূহ:

আরাফার দিন নিম্নোক্ত দোআ’টি কয়েকবার পাঠ করবে-

اخرى يَا ذَخِيرَتِي يَا مُمِدَّنِي عِنْدَ شِدَّتِي يَارِ جَائِي عِنْدَ

بِيِّنِي يَا غِيَالِي عِنْدَ نَاقَتِي يَا أُنشِئُ عِنْدَ وَحُدَتِی يَا نِي فِي دَلَّتِي يَا دَلِيلِي فِي خَيْرَتِي بَكَ التَّوْفِيقُপ্রবন্ধ

উচ্চারণ- ইয়া যাখীরী ইয়া যাখীরাতী ইয়া মুমিদ্দানী ই’নদা শিদ্দাতী ইয়া রিজাঈ ই’নদা মুছিবাতি ইয়া গিয়াছী ইয়া দালিলী ফী খায়রাতী বিকাততাওফীকু।

মহান আল্লাহ পাক এ দোআ’ পাঠকারীকে হাজার পূণ্য দান করেন, জান্নাতে তার হাজার মর্যাদা সমুন্নত করেন এবং প্রত্যেকটি অভাব পূরণ করেন।

হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু ফরমান-‘আরাফাত দিবসের সন্ধ্যায় রাসুল কারীম সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম অধিকহারে দোআ’ করে ফরমাতেন-

اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ كَمَا تَقُولُ وَخَيْرًا مِمَّا نَقُولُ اللَّهُمْ لَكَ صَلُوتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي وَلَكَ يَا رَبِّي تَرَانِي اللَّهُمَّ إِلَى أَعُوذُبِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَفِتْنَةِ الصَّدْرِ وَشَتَاتِ الْأَمْرِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَلُكَ مِنْ خَيْرِ مَا تَجْرِي بِهِ الرِّيحُ

উচ্চারণ- আল্লাহুম্মা লাকাল্লহামদু কামাতাকুলু ওয়া খায়রাম্ মিম্মা নাকুল আল্লাহুম্মা লাকা ছালাতী ওয়া নুছুকী ওয়ামাহয়ায়া ওয়ামামাতী ওয়ালাকা মিনখায়রী মা তাজরী বিহিররীহু আমরী আল্লাহুম্মা ইন্নী আছআলুকা মিনখায়রী মা তাজরী বিহিরীহু”।

হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূল কারীম সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ ফরমান- আরাফায় আমার ও আমার পূর্ববর্তী পয়গম্বর আলায়হিস সালাম গণের দোআ’ ছিল নিম্নোরূপ-

لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ

وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ اللَّهُمَّ أَجْعَلُ فِي قَلْبِي نُوِّرًا وَفِي سَمُعِي نُورًا وَ فِي بَصَرِي نُورًا اللَّهُمَّ اشْرَحْ لِي صَدْرِي وَيَسْرُ لِي أَمْرِكُ اللَّهُمَّ أَعُوذُ بِكَ مِنْ وَسَائِسَ الصَّدْرِ وَفِتْنَةِ الْقَبْرِ وَشَتَاتِ الْأَمْرِئُ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا يَلِجُ فِي اللَّيْلِ وَمَنْ شَرِ مَا يَلِجُ فِي النَّهَارِ وَمِنْ شَرِّ مَا تَهَبُّ بِهِ الرِّيَاحُ وَمِنْ شَرِّ بَدَائِقِ الدَّهْرِ

উচ্চারণ- লাইলা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা-শরীকালাহু লাহুলমুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুয়া আ’লা কুল্লি শায়ইন ক্বাদীরুন। আল্লাহুম্মাজ আ’ল ফী কালবী নূরাঁও ওয়া ফী ছামই নূরীও ওয়া ফী বাছারী নূরাঁও। আল্লাহুম্মাগ্রাহলী ছাদ্রী ওয়া ইয়াচ্ছিরলী আ